এক হারিয়ে যাওয়া পুজো – শ্যামল সেনগুপ্ত

Review Overview

User Rating:
0 ( 8 Votes )

শরতকালএই নামটির মধ্যে কি যে আছে জানিনাবাঙ্গালি মাত্রই এইনামটি শুনলে আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে | হঠাত চোখ দুটো আকাশপানে চলে যায়নীল আকাশ এত নীল যেন আগে ছিল না | তার মাঝে পেঁজা 

পেঁজা তুলোর মত সাদা মেঘ মন্থর গতিতে ভাসতে ভাসতে চলেছে | ভাদ্র 

মসের ভরা নদীর দু-পাশে যতদুর চো যায় কাশ ফুলের মেলা | হাওয়াতে দুলছে | ঠিক মনে হচ্ছে যেন কার চরণধ্বনি  শুনে সে তাকে ব্যজন করে চলেছে | মাঠের ধান গাছের ওপ দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যায় তখন  দৃশ্য যে কি তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না |

এই রকম এক গ্রামে আমাদের বাড়ি িল | একটু দূর দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত | তারই একটা ধার দিয়ে খাল াটাসেই খালের ধারে আমাদের বাড়ির খিড়কি দরজা | গঙ্গার জোয়ার ভাঁটায় খালের জল বাড়ে কমে | বাঁধানো ঘাটবাড়ির ছেলেরা মেয়েরা সবাই সেখানে চান করেকাপড় কাচে - সন্ধ্যাবেলা গা ধোয়া নিত্য িনের কাজ | বাবা কাকা-দের দেখেছি রোজ সন্ধ্যায় ওই খালের জলে াত-পা ধুয়ে আহ্নিক করতে | বাড়িতে শালগ্রাম শিলার নিত্য পুজোর ব্যবস্থা ছিল |

ভাদ্রমাস আসা মানেই মনে মনে পুজোর বাদ্যি বেজে ওঠা | ঠাকুর দালান ঝাড়াবাড়ি রঙ করাবাড়ি পরিস্কার করা এসব কাজ শুরু হয়ে যে | কাপড় জামা কেনাও শুরু হয়ে েত |

শরতকালের নিয়ম মত থেকে থেকে নির্মেঘ আকাশে মেঘ ডেকে উঠত , ঠাকুমা বলতেন ওই শিব ঠাকুর মা দুগ্গা-কে ভয় দেখাচ্ছেন যাতে তিনি বাপের বাড়ি না আসেন | এর পর হয় একদিন বিকেলে সূর্যদেব অস্ত াচ্ছেনসারা আকাশ লাল রঙে রঙিন হয়ে উঠেছেসেই ঠাকুমার কথা - ওই দেখ মা দুগ্গা কাপড় কেচে শুকোতে দিয়েছেন আর সেই কাপড়ের রঙে সারা আকাশ রঙিন হয়ে উঠেছে | এই সময় বাউলের দল আসতে শুরু করত াদের আগমনী গানের পসরা সাজিয়ে |

আর এই সবের মধ্যে এসে যেত পুজোর সেই দিন | ভোর বেলায় শঙ্খধ্বনি  হুলু রবে ঘুম ভেঙে যেত | এক দৌড়ে খিড়কি দরজা দিয়ে উঁকি - সামনে নৌকোর ওপর মা দুগ্গা | সারা রাত ধরে কুমোরটুলির ঘাট থেকে ৌকোয় চড়ে কোন সকালে সবার চোখের আড়ালে তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন খিড়কির দরজায় |

সবাই মিলে মা-কে উঠোনে এনে রাখত | তারপর বরণের পালা চলত এক ঘন্টা ধরে | এরপর বাড়ির ছেলেরা সব চামর আর বড় বড় পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে মা-কে ঠাকুর দালানে েদির ওপর বসাতো | নারকোল নাড়ুতিলের নাড়ুআনন্দ নাড়ুঝালের নাড়ুচন্দ্রপুলিনারকোল ছাপা, ঢাকের বাদ্যিপুষ্পাঞ্জলিআরতিভোগ - চারটে দিন যে কোথা দিয়ে কেটে যেত বোঝাই যেত না |

সেই বাড়িসেই দালানখিড়কির দরজালোকজন কেউ নেই - আছে শুধু  কেমন করা স্মৃতি |

Attachment

123 Untitled-2 1794613_10153829017515507_1368737869_n

Leave a Comment